বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের গুড়ের স্বাদ ও গুণাগুণ এখন আপনার ঘরে! রাজশাহীর বাঘা এলাকার প্রসিদ্ধ খেজুর বাগান থেকে সরাসরি সংগ্রহীত খেজুরের রস থেকে প্রস্তুত আমাদের এই ঝোলা গুড়। শতাব্দীর পুরানো প্রথা মেনে তৈরি এই গুড়ে নেই কোনো রাসায়নিক মিশ্রণ কিংবা কৃত্রিমতা। শীতকালীন বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই গুড় শুধু স্বাদেই নয়, গুণেও অনন্য।
আমাদের গুড় তৈরির প্রক্রিয়া
আমাদের গুড় তৈরি হয় সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে। নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত খেজুর গাছ থেকে বিশেষ পদ্ধতিতে রস সংগ্রহ করা হয়। প্রতিটি গাছ থেকে ভোরে রস সংগ্রহ করা হয় যা গুড়ের মান উন্নত রাখে। সংগ্রহীত তাজা রসকে মাটির চুলায় ধীরে ধীরে জ্বাল দেওয়া হয়। এই সময় রসের উপরের ফেনা বারবার তুলে ফেলা হয় যা গুড়ের স্বাদ ও বিশুদ্ধতা বজায় রাখে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি আমাদের বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে করা হয়।
ঝোলা খেজুর গুড় খাওয়ার উপকারিতা
♢ প্রাকৃতিক মিষ্টি: এটি প্রাকৃতিকভাবে মিষ্টি এবং কোনো কৃত্রিম মিষ্টি বা প্রিজারভেটিভ নেই। খেজুর গুড় পরিশোধিত চিনি বা অন্যান্য কৃত্রিম মিষ্টির চেয়ে স্বাস্থ্যকর এবং নিরাপদ বিকল্প।
♢ আয়রনের ভালো উৎস: খেজুর গুড় আয়রনে সমৃদ্ধ, যা রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সাহায্য করে। আয়রন শরীরে লোহিত রক্তকণিকার উৎপাদন বাড়ায় এবং রক্তে অক্সিজেন বহন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
♢ তাৎক্ষণিক শক্তি প্রদান করে: ঝোলা গুড় খেলে দ্রুত শক্তি পাওয়া যায়। এতে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা শরীরে দ্রুত শোষিত হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে শক্তি সরবরাহ করে, যা ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে।
♢ হজমে সহায়ক: ঝোলা খেজুর গুড় হজমের উন্নতি ঘটায় এবং পাকস্থলীর কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করে। এটি গ্যাস, অম্বল বা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়ক।
♢ ডিটক্সিফিকেশনের জন্য উপকারী: খেজুরের গুড় একটি প্রাকৃতিক ডিটক্সিফায়ার হিসেবে কাজ করে। এটি লিভার থেকে টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে, যা শরীরকে বিশুদ্ধ রাখে।
♢ শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা দূর করে: ঝোলা খেজুর গুড় শ্বাসতন্ত্রের জন্যও উপকারী। এটি সর্দি-কাশি, অ্যাজমা এবং শ্বাসকষ্টের উপশমে কার্যকর। শীতকালে খেলে শ্বাসযন্ত্রকে উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে।
♢ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ: এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যাল থেকে রক্ষা করে, যা বার্ধক্য এবং বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সহায়ক।
♢ ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: যদিও গুড় মিষ্টি, এটি চিনি বা অন্যান্য মিষ্টির চেয়ে কম ক্যালোরিযুক্ত এবং মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
♢ হাড়ের জন্য উপকারী: দানাদার ঝোলা খেজুর গুড়ে থাকা ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম হাড়কে মজবুত করতে সহায়ক। এটি হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষা করে এবং হাড়ের ঘনত্ব বাড়ায়।
♢ ত্বক এবং চুলের পুষ্টি: গুড়ে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান ত্বক এবং চুলকে পুষ্টি যোগায়। এটি ত্বককে উজ্জ্বল ও মসৃণ করতে সাহায্য করে এবং চুলের বৃদ্ধিতে সহায়ক।
ঝোলা খেজুর গুড়ের ব্যবহার
♢ পিঠা এবং মিষ্টিতে: ঝোলা খেজুর গুড় শীতের পিঠা, পায়েস, এবং অন্যান্য মিষ্টান্ন তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
♢ চা ও দুধে: দুধ বা চায়ে মিষ্টি হিসাবে ব্যবহার করলে এটি স্বাদ বাড়ায় এবং প্রাকৃতিকভাবে পুষ্টি যোগায়।
♢ স্ন্যাকস হিসেবে: ঝোলা গুড় সরাসরি বা রুটি, পিঠার সাথে খাওয়া যায়, যা তাৎক্ষণিক শক্তি ও স্বাদ দেয়।
খেজুরের গুড় সংরক্ষণ
- পাত্র : গুড় সংরক্ষণের জন্য সাধারণত মাটির পাত্র বা কাঁচের বোতল ব্যবহার করা হয়। মাটির পাত্রে গুড় বেশি দিন ভালো থাকে, কারণ এটি প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা থাকে।
- স্থান : গুড়কে শীতল ও শুকনো স্থানে সংরক্ষণ করতে হয়। আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখতে পারলে গুড় দীর্ঘদিন ভালো থাকে।
- তাপমাত্রা : গুড়কে বেশি দিন ভালো রাখতে চাইলে তা একটি শুষ্ক স্থানে রাখা উচিত। আর্দ্রতা গুড়ের গুণগত মান নষ্ট করতে পারে। এজন্য গুড় সংরক্ষণের আগে তা পুরোপুরি ঠান্ডা করে নেওয়া জরুরি।





রাহাত –
এটা অনেক ভাল পন্য। স্বাদ অনেক ভাল ছিল। অরিজিনাল মনে হয়েছে