
বয়লারের সিকোয়েন্স কন্ট্রোলার
বয়লারের সিকোয়েন্স কন্ট্রোলার
সিকুয়েন্স কন্ট্রোলার হলো বয়লারের স্বয়ংক্রিয় মস্তিষ্ক, যা নির্দিষ্ট ধাপে বয়লার চালু, পরিচালনা ও বন্ধ সব কাজ নিজে করে। কিভাবে করে? পুরো পোষ্ট পড়ে জেনে নিন
ভূমিকা
একটি বয়লারের অপারেশন যেমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। বয়লার চালু করা থেকে শুরু করে জ্বালানি সরবরাহ, শিখা পর্যবেক্ষণ এবং লোডের চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ—এই প্রতিটি কাজ যদি মানুষের হাতে সম্পন্ন করা হয়, তাহলে ভুল হবার সম্ভাবনা থেকে যায়। একটি বিস্ফোরক সিস্টেম হিসেবে বয়লারের জন্য এই ভুল অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। সেজন্যই আধুনিক বয়লারগুলো একটি বিশেষ স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যার নাম সিকুয়েন্স কন্ট্রোলার। এই কন্ট্রোলার বয়লারের সমস্ত কার্যক্রম একটি নির্দিষ্ট, পূর্বনির্ধারিত ক্রমানুসারে, সঠিক সময়ে এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সম্পন্ন করে।
মূল বিষয়: সিকুয়েন্স কন্ট্রোলার বয়লারের সমগ্র অপারেশনকে একটি নির্দিষ্ট লজিক্যাল ক্রমে পরিচালনা করে, যার মাধ্যমে মানুষের ভুলের সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়।
সিকুয়েন্স কন্ট্রোলার কী?
সিকুয়েন্স কন্ট্রোলার হল একটি বিশেষায়িত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, যা বয়লারের বার্নারকে ধাপে ধাপে চালু করে, পরিচালনা করে এবং বন্ধ করে। এর মূল কাজ হল বয়লারের অপারেশনকে সঠিক সময়ে, সঠিক যুক্তি বা লজিক অনুসারে এবং সকল নিরাপত্তামূলক ইন্টারলক শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পরিচালনা করা। এটি ঠিক করে দেয় কোন সময় কোন ভাল্ব খুলবে বা বন্ধ হবে, শিখা না থাকলে কিভাবে সিস্টেম লকআউট হবে, বাতাসের চাপ কম থাকলে কেন জ্বালানি সরবরাহ অনুমোদন করা হবে না, কতক্ষণ ধরে পার্জ (ফার্নেস পরিষ্কারকরণ) চলবে এবং ফ্যান, ইগনাইটর, ভাল্ব ও ড্যাম্পার কোন ক্রমে চালু বা বন্ধ হবে। এই জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো এবং ক্রমিক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রিত হয় একটি ছোট বাক্সের ভিতরে থাকা লজিক সার্কিট এবং প্রোগ্রামেবল সফটওয়্যার দ্বারা।
লজিক (Logic) কীভাবে তৈরি হয়?
সিকুয়েন্স কন্ট্রোলারের প্রতিটি ক্রিয়া বা সিদ্ধান্তের পেছনে একটি নির্দিষ্ট যুক্তি বা লজিক কাজ করে। এই লজিক সাধারণত তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত:
সময়ভিত্তিক লজিক (Time-based logic)
এটি নির্দিষ্ট সময়পর্বের উপর ভিত্তি করে কাজ করে, যেমন বিভিন্ন অন/অফ সিগন্যাল, পার্জ টাইম, ইগনিশন টাইম এবং নিরাপত্তা টাইম। উদাহরণস্বরূপ, প্রি-পার্জ ২০ সেকেন্ড, ইগনিশন টাইম ৫ সেকেন্ড এবং ফ্লেম সেফটি টাইম ৩ সেকেন্ড সময়ভিত্তিক লজিকের অন্তর্ভুক্ত।
শর্তভিত্তিক লজিক (Condition-based logic)
এই লজিক “যদি-তবে” (IF–THEN) নিয়মে পরিচালিত হয়। যেমন, যদি বাতাসের চাপ ঠিক থাকে, তবে ফুয়েল ভাল্ব খুলবে। অথবা, যদি শিখা শনাক্ত হয়, তবে প্রধান বার্নার চালু হবে।
ইন্টারলক লজিক (Interlocking system)
এগুলি হল বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা শর্ত, যা পূরণ না হলে পরবর্তী কোনো ধাপে যাওয়া যায় না। যেমন, ফুয়েল ভাল্ব তখনই খুলবে যখন: বাতাসের চাপ ঠিক থাকবে, ফার্নেস পার্জ সম্পন্ন হবে, ইগনিশন সিস্টেম প্রস্তুত থাকবে এবং পাইলট ফ্লেম স্থিতিশীল হবে। এই শর্তগুলোর যেকোনো একটি ব্যর্থ হলে পুরো সিস্টেম বন্ধ হয়ে যাবে বা লকআউট হবে।
সিকুয়েন্স কন্ট্রোলারের সম্পূর্ণ ধাপ–ধাপ অপারেশন
একটি বয়লারের সিকুয়েন্স কন্ট্রোলারের সম্পূর্ণ কার্যক্রমকে ধাপে ধাপে একটি গল্পের মত বর্ণনা করা যায়।
বয়লারে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করার পরই কন্ট্রোলার তার প্রথম কাজ হিসেবে নিজের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা পরীক্ষা করে, যাকে স্ব-পরীক্ষণ মোড (Self-checking mode) বলে। এই পর্যায়ে এটি প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ডের যোগাযোগ, সকল সেন্সরের সংযোগ, লিমিট সুইচের অবস্থা, ফুয়েল ভাল্বের লিক টেস্ট, ফ্যানের রেডি সিগন্যাল এবং এয়ার সুইচের অফ অবস্থা যাচাই করে। সবকিছু ঠিক থাকলে কন্ট্রোলার স্ট্যান্ডবাই মোডে চলে যায়।
অপারেটর স্টার্ট বাটন চাপলেও কন্ট্রোলার সঙ্গে সঙ্গে বার্নার চালু করে না। বরং এটি প্রথমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা শর্ত পূরণ হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হয়। যেমন: পানি নিম্নস্তরে আছে কিনা, উচ্চচাপ ট্রিপ সক্রিয় হয়েছে কিনা, ইমার্জেন্সি স্টপ সাধারণ অবস্থায় আছে কিনা, ফার্নেসের তাপমাত্রা নিরাপদ সীমায় আছে কিনা এবং দহন বায়ুর সুইচ প্রস্তুত কিনা। কন্ট্রোলার প্রতিটি সংশ্লিষ্ট সেন্সর থেকে সিগন্যাল নিয়ে নিশ্চিত হয়। এগুলোর যেকোনো একটিতে ত্রুটি থাকলেই স্টার্ট কমান্ড গ্রহণ করবে না।
সকল প্রাথমিক শর্ত পূরণ হলে কন্ট্রোলার ফার্নেস পরিষ্কার করার প্রক্রিয়া শুরু করে। এটি একটি বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা নিয়ম (NFPA স্ট্যান্ডার্ড)। এই ধাপে ফ্যান চালু হয় এবং ড্যাম্পার পুরোপুরি খুলে গিয়ে একটি নির্দিষ্ট সময় (২০-৬০ সেকেন্ড) ধরে ফার্নেসে বাতাস প্রবাহিত হয়। এর উদ্দেশ্য হল আগের কোনো অপারেশন থেকে ফার্নেসে জমে থাকা দাহ্য গ্যাসগুলো বের করে দেওয়া। এই পুরো সময় জুড়ে ফুয়েল ভাল্ব সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকে। প্রি-পার্জ সফলভাবে শেষ হলে কন্ট্রোলার ইগনিশন ধাপে অগ্রসর হয়।
এ ধাপে কন্ট্রোলার ইগনিশন ট্রান্সফরমার চালু করে স্পার্ক তৈরি করে। সেই মুহূর্তেই এটি পাইলট ফুয়েল ভাল্ব খুলে দেয়, যার ফলে পাইলট ফ্লেম তৈরি হয়। একই সাথে কন্ট্রোলার আল্ট্রাভায়োলেট বা ইনফ্রারেড ফ্লেম সেন্সরের মাধ্যমে শিখা শনাক্ত করার চেষ্টা করে। এখানে একটি সুরক্ষা সময় (সাধারণত ৩-৫ সেকেন্ড) বরাদ্দ থাকে। এই সময়ের মধ্যে শিখা শনাক্ত না হলে কন্ট্রোলার পুরো সিস্টেম লকআউট করে দেয়, অর্থাৎ জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে নিরাপদ মোডে চলে যায়।
পাইলট ফ্লেম জ্বালানোর পর কন্ট্রোলার ফ্লেম সেন্সরের মাধ্যমে ক্রমাগত এটি পর্যবেক্ষণ করে যে শিখাটি স্থিতিশীল কিনা। যদি শিখা অনির্বাপভাবে জ্বলে বা এর সিগন্যাল দুর্বল হয়, তাহলে কন্ট্রোলার ঝুঁকি নেয় না। সে পুনরায় ইগনিশনের চেষ্টা করতে পারে। সাধারণত দুই-তিনবার চেষ্টা ব্যর্থ হলে এটি স্থায়ী লকআউটে যায়।
পাইলট ফ্লেম সম্পূর্ণভাবে স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য বলে নিশ্চিত হলে, কন্ট্রোলার প্রধান ফুয়েল সোলেনয়েড ভাল্ব খুলে দেয়। ফলে বড় এবং পুরোপুরি বার্নার ফ্লেম তৈরি হয়। প্রধান ফ্লেম শনাক্ত হওয়ার পর ইগনিশন সিস্টেম বন্ধ করে দেওয়া হয় (পাইলট ফ্লেম তখন ঐচ্ছিকভাবে বন্ধ বা জ্বালানো থাকতে পারে)। এই পর্যায়ে কন্ট্রোলারের লজিকের মধ্যে থাকে: ড্যাম্পারকে রানিং পজিশনে নিয়ে যাওয়া, ফুয়েল ভাল্বকে আনুপাতিক হারে খোলা, ফ্লেম সেন্সরের মাধ্যমে অবিরত নজরদারি এবং গ্যাস/তেলের চাপ ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করা। এই ধাপে যেকোনো ত্রুটি ঘটামাত্রই সিস্টেম ট্রিপ করে, অর্থাৎ জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
এখন বয়লার সম্পূর্ণরূপে চালু হয়ে বাষ্প বা তাপ উৎপাদনে সক্ষম। এই চলমান অবস্থায় সিকুয়েন্স কন্ট্রোলার নিম্নলিখিত কার্যক্রমগুলো নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি করে: বাষ্পের চাপ নিরীক্ষণ, পানির স্তর পর্যবেক্ষণ, বাতাস ও জ্বালানির অনুপাত নিয়ন্ত্রণ, ড্যাম্পার ও ফুয়েল ভাল্বের মড্যুলেশন এবং অতিতাপন সুরক্ষা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, এটি ফ্লেমের ওপর অবিচ্ছিন্ন নজর রাখে। এই পর্যায়ে বিভিন্ন ইন্টারলক অত্যন্ত সক্রিয় থাকে, যেমন: ফুয়েল ভাল্ব ইন্টারলক, এয়ার সুইচ ইন্টারলক, উচ্চচাপ ইন্টারলক, নিম্নপানি স্তর ইন্টারলক, ফ্লেম ফেইল ইন্টারলক এবং ফ্যান মোটর ইন্টারলক। এই ইন্টারলকগুলোর যেকোনো একটিও সক্রিয় হলে (অর্থাৎ শর্ত পূরণ না হলে) কন্ট্রোলার সাথে সাথে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।
যখন অপারেটর স্টপ বাটন চাপেন বা লোডের চাহিদা শেষ হয়, তখন কন্ট্রোলার শাটডাউন প্রক্রিয়া শুরু করে। প্রথমে প্রধান ফুয়েল ভাল্ব বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে ফ্যান তখনও চালু থাকে এবং ড্যাম্পার খোলা রাখা হয়, যাতে একটি পোস্ট-পার্জ (পরবর্তী পরিষ্কারকরণ) করা যায়। এই পোস্ট-পার্জের সময় ফার্নেস ও সংশ্লিষ্ট নালিপথ থেকে অবশিষ্ট তাপ ও গ্যাস বেরিয়ে যেতে পারে। ইগনিশন সিস্টেম এই সময় বন্ধ থাকে। পোস্ট-পার্জ সম্পন্ন হলে কন্ট্রোলার আবার স্ট্যান্ডবাই মোডে ফিরে যায়, পরবর্তী চালু কমান্ডের জন্য প্রস্তুত থাকে।
ইন্টারলক (Interlock) কী ও কেন ব্যবহার করা হয়?
ইন্টারলক হল এমন বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা শর্ত, যা পূরণ না হলে পরবর্তী অপারেশন ধাপে যাওয়া যায় না। এগুলো জীবনরক্ষাকারী সিস্টেম হিসেবে কাজ করে। উদাহরণ স্বরূপ: ফ্যান চালু না হলে কখনোই ফুয়েল ভাল্ব খুলবে না; বাতাসের চাপ ঠিক না থাকলে ইগনিশন সিস্টেম চালু হবে না; ফ্লেম শনাক্ত না হলে প্রধান ভাল্ব খুলবে না; বাষ্পের চাপ অত্যধিক হলে বয়লার চালু থাকবে না। ইন্টারলক ছাড়া একটি বয়লার একটি অনিয়ন্ত্রিত বোমার সমান বিপজ্জনক হতে পারে।
| ইন্টারলকের ধরন | কাজ | ফলাফল যদি ব্যর্থ হয় |
|---|---|---|
| ফ্যান ইন্টারলক | ফ্যান চালু না হলে ফুয়েল সরবরাহ বন্ধ রাখে | অসম্পূর্ণ দহন, ফার্নেসে গ্যাস জমা |
| বায়ুচাপ ইন্টারলক | পর্যাপ্ত বায়ুচাপ না থাকলে ইগনিশন বন্ধ রাখে | ধোঁয়া তৈরি, অসম্পূর্ণ দহন |
| ফ্লেম ইন্টারলক | শিখা শনাক্ত না হলে ফুয়েল ভাল্ব বন্ধ করে | ফার্নেসে অনিয়ন্ত্রিত জ্বালানি জমা, বিস্ফোরণের ঝুঁকি |
| পানি স্তর ইন্টারলক | পানি নিম্নমাত্রায় গেলে বয়লার বন্ধ করে | বয়লার ওভারহিটিং, টিউব ফেটে যাওয়া |
| চাপ ইন্টারলক | অত্যধিক চাপে বয়লার ট্রিপ করে | বয়লার বিস্ফোরণ |
সিকুয়েন্স কন্ট্রোলারের ভিতরের লজিক সার্কিট
একটি সিকুয়েন্স কন্ট্রোলারের অভ্যন্তরীণ গঠনে সাধারণত নিম্নলিখিত উপাদানগুলো থাকে:
রিলে লজিক
পুরনো ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল কন্ট্রোলারে এটি প্রধান ছিল, যেখানে একটি রিলে অন্য রিলেকে চালু বা বন্ধ করত।
মাইক্রোপ্রসেসর লজিক
আধুনিক কন্ট্রোলারগুলোতে একটি মাইক্রোপ্রসেসর বা প্রোগ্রামেবল লজিক কন্ট্রোলার (পিএলসি) থাকে। সমস্ত সিকুয়েন্স সফটওয়্যারভিত্তিক IF–ELSE লজিক দিয়ে চলে এবং একটি ডিসপ্লে স্ক্রিনে বিভিন্ন পর্যায় ও অবস্থা দেখায়।
টাইমার সার্কিট
পার্জ টাইম, ইগনিশন টাইম, সেফটি টাইম ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ টাইমিং সার্কিট বা সফটওয়্যার টাইমার ব্যবহৃত হয়।
নিরাপত্তা সার্কিট
ফ্লেম সার্কিট, প্রেসার সার্কিট, এয়ার ফ্লো সার্কিট এবং ফুয়েল কন্ট্রোল সার্কিট আলাদাভাবে ডিজাইন করা থাকে। যেকোনো একটি সার্কিটে সমস্যা দেখা দিলেই তা মূল অপারেশন লুপকে ভেঙে দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।
সিকুয়েন্স কন্ট্রোলারের লজিক ডায়াগ্রাম
পুরো প্রক্রিয়াটিকে একটি সরল রৈখিক ক্রমে প্রকাশ করা যায়:
↑
↓
যেকোনো ধাপে ইন্টারলক ব্যর্থ → লকআউট → স্ট্যান্ডবাই
এই ধারাবাহিকতায় একটি ধাপও এড়িয়ে যাওয়া যায় না, কারণ প্রতিটি ধাপই পরের ধাপের জন্য পূর্বশর্ত হিসেবে কাজ করে।
উপসংহার
সিকুয়েন্স কন্ট্রোলার একটি বয়লারের স্বয়ংক্রিয় ও নিরাপদ পরিচালনার মূল কেন্দ্র। এটি কেবল অপারেশনকে স্বয়ংক্রিয় করে না, বরং মানুষের ভুলের সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। বয়লার ও সংশ্লিষ্ট শিল্পে যারা কাজ করেন, তাদের জন্য সিকুয়েন্স কন্ট্রোলারের লজিক, ইন্টারলক এবং ধাপবাহী অপারেশন সম্পূর্ণরূপে বোঝা অপরিহার্য। কারণ, একটি ভুল লজিক বা ত্রুটিপূর্ণ ইন্টারলক একটি বিপজ্জনক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে, পক্ষান্তরে একটি সঠিকভাবে ডিজাইনকৃত ও কার্যকর সিকুয়েন্স কন্ট্রোলার পুরো বয়লার সিস্টেমকে নিরাপদ, স্থিতিশীল এবং দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্য অপারেশনের নিশ্চয়তা দেয়।
চূড়ান্ত মন্তব্য: আধুনিক বয়লার অপারেশনে সিকুয়েন্স কন্ট্রোলার অপরিহার্য একটি নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। এটি শুধু যন্ত্রপাতি নিয়ন্ত্রণ করে না, বরং একটি সম্পূর্ণ নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলে যেখানে মানুষের ভুলের সম্ভাবনা সর্বনিম্নে রাখা হয়।
উপসংহার
বয়লার সিকোয়েন্স কন্ট্রোলার আধুনিক বয়লার সিস্টেমের একটি অপরিহার্য অংশ যা নিরাপত্তা, দক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করে। এই টেকনোলজির মাধ্যমে জ্বালানি খরচ কমে এবং সিস্টেমের আয়ু বাড়ে।


