বয়লার আইন, ২০২২
📌 এক নজরে আইনটি কী?
বয়লার আইন, ২০২২ শিল্প কারখানায় বয়লার ব্যবহারের নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এটি ১৯২৩ সালের পুরোনো আইন প্রতিস্থাপন করে। আইনটি বয়লার নির্মাণ, আমদানি, রপ্তানি, ব্যবহার, মেরামত, পরিদর্শন, লাইসেন্স, জরিমানা ও অপরাধের বিধান রাখে। মূল লক্ষ্য—দুর্ঘটনা হ্রাস এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা।
প্রথম অধ্যায় — প্রারম্ভিক
(১) এই আইন বয়লার আইন, ২০২২ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
পূর্ববর্তী আইন: Boilers Act, 1923 (রহিত)
গেজেট মূল্য: ২৪.০০ টাকা
‘বয়লার’ — ২৫ লিটারের অধিক পানি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন বদ্ধ আধার বা পাত্র যা কেবল পানি থেকে বাষ্প উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় এবং চাপযুক্ত থাকে।
‘দুর্ঘটনা’ — বিস্ফোরণ বা ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থা যা বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।
‘বাষ্প-নল’ — ৭.৬২ সেমি-এর অধিক অভ্যন্তরীণ ব্যাস বিশিষ্ট নল।
‘প্রধান বয়লার পরিদর্শক’ — সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি।
(সম্পূর্ণ সংজ্ঞা আইনে প্রদত্ত)
• বয়লার মানে বড় পাত্র (২৫ লিটারের বেশি) যা পানি গরম করে বাষ্প তৈরি করে, এবং চাপে থাকে।
• দুর্ঘটনা মানে বিস্ফোরণ বা এমন ক্ষতি যা বিস্ফোরণ ডেকে আনতে পারে।
• বাষ্প-নল হল ৩ ইঞ্চির বেশি চওড়া পাইপ যার মাধ্যমে বাষ্প যায়।
• প্রধান বয়লার পরিদর্শক সরকারি কর্মকর্তা যিনি সবকিছু তদারকি করেন।
বয়লারের সরল চিত্র: পানি গরম করে বাষ্প তৈরি
(১) জলযান, রেল বা সড়কে চলাচলকারী যানবাহনে ব্যবহৃত বয়লার প্রযোজ্য নয়।
(২) সরকার বিশেষ শ্রেণির বয়লারকে অব্যাহতি দিতে পারে।
দ্বিতীয় অধ্যায় — প্রধান বয়লার পরিদর্শকের কার্যালয়, বোর্ড
৪. প্রধান বয়লার পরিদর্শকের কার্যালয় ঢাকায়, তবে আঞ্চলিক কার্যালয় হতে পারে।
৫. কার্যাবলি: মান নিয়ন্ত্রণ, লাইসেন্স প্রদান, তালিকাভুক্তি, প্রশিক্ষণ ইত্যাদি।
প্রধান দায়িত্ব: মান নিয়ন্ত্রণ, লাইসেন্স প্রদান, তালিকাভুক্তি, প্রশিক্ষণ আয়োজন
৬. বোর্ডে ৮ সদস্য, চেয়ারম্যান — শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব, সদস্য সচিব — প্রধান বয়লার পরিদর্শক। মনোনীত সদস্যদের মেয়াদ ৩ বছর।
৭. বোর্ড কোড, তালিকা, আপিল ইত্যাদি অনুমোদন করে।
৮. সভায় কোরাম এক-তৃতীয়াংশ, সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সিদ্ধান্ত, ভোট সমতায় সভাপতির দ্বিতীয় ভোট।
বোর্ডের সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব
তৃতীয় অধ্যায় — বয়লার পরিচালনা লাইসেন্স, প্রকারভেদ, তালিকাভুক্তি
৯. লাইসেন্স ব্যতীত বয়লার চালানো যাবে না। লাইসেন্সের মেয়াদ ৫ বছর, নবায়নযোগ্য।
১০. নবায়নের জন্য আবেদন, ফি ও দলিল দিতে হবে।
১১. মিথ্যা তথ্য, অবহেলা, অক্ষমতা বা নবায়ন প্রত্যাখ্যানে লাইসেন্স বাতিল হতে পারে (১৫ দিনের নোটিশ)।
১২. লাইসেন্স ৩ গ্রেড: (ক) গ্রেড-১ (সীমাহীন), (খ) গ্রেড-২ (৫,০০০ বর্গফুট পর্যন্ত), (গ) গ্রেড-৩ (১,৫০০ বর্গফুট পর্যন্ত)।
• গ্রেড-১ — সব ধরণের বয়লার চালাতে পারবেন।
• গ্রেড-২ — যার তাপতল ৫,০০০ বর্গফুটের কম।
• গ্রেড-৩ — যার তাপতল ১,৫০০ বর্গফুটের কম।
লাইসেন্স বাতিল হতে পারে যদি মিথ্যা তথ্য দেয়া হয়, অবহেলা থাকে, বা নবায়ন না করা হয়।
| গ্রেড | সুযোগ | তাপতল সীমা |
|---|---|---|
| গ্রেড-১ | যেকোনো ধারণ ক্ষমতা | সীমাহীন |
| গ্রেড-২ | একক বা সংযুক্ত সেট | ৫,০০০ বর্গফুট পর্যন্ত |
| গ্রেড-৩ | একক বা সংযুক্ত সেট | ১,৫০০ বর্গফুট পর্যন্ত |
১৩. বয়লার ৩ প্রকার: ইলেকট্রোড, স্মল ইন্ডাস্ট্রিয়াল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল।
১৪. নির্মাণকারী, মেরামতকারী, পরিদর্শনকারী প্রতিষ্ঠান, ইনডেন্টর ও ঝালাই পরীক্ষণ প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত হতে হবে।
চতুর্থ অধ্যায় — বয়লার নির্মাণ, আমদানি ও রপ্তানি
১৫. স্থানীয়ভাবে বয়লার তৈরি করা যাবে, তবে নির্ধারিত শর্ত মেনে (ডিজাইন অনুমোদন, পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন, ঝালাই পরীক্ষণ ইত্যাদি)।
১৬. আমদানি করতে হলে বোর্ড-স্বীকৃত কোড ও পরিদর্শনকারী প্রতিষ্ঠানের সনদ লাগবে, এবং তালিকাভুক্ত ইনডেন্টরের মাধ্যমে।
১৭. রপ্তানি করা যাবে প্রচলিত নীতি অনুসারে।
• নির্মাণ: বয়লার তৈরি করতে হলে ডিজাইন অনুমোদন, পরিদর্শন, ঝালাই পরীক্ষণ ও ফি দিতে হবে।
• আমদানি: বিদেশ থেকে বয়লার আনতে হলে নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে চলতে হবে এবং স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের সনদ থাকতে হবে।
• রপ্তানি: সাধারণ রপ্তানি নীতি অনুযায়ী বয়লার বিদেশে পাঠানো যাবে।
নির্মাণের ৮টি শর্ত: স্থান, আইন মেনে চলা, ফি, ডিজাইন অনুমোদন, পরিদর্শন, ঝালাই, প্রত্যয়ন, মানসম্মত ফিটিংস।
পঞ্চম অধ্যায় — বয়লার ব্যবহার, নিবন্ধন, হস্তান্তর, মেরামত
১৮. বয়লার ব্যবহারের জন্য নিবন্ধন ও সনদ আবশ্যক, সনদের মেয়াদ ১ বছর (নবায়নযোগ্য)।
১৯–২০. সনদ নবায়ন ও বাতিলের বিধান।
২১. ৮টি নিষেধাজ্ঞা (যেমন: নিবন্ধন ছাড়া, ক্ষতিগ্রস্ত, মেয়াদোত্তীর্ণ সনদ ইত্যাদি)।
২২. ব্যবহারকারীর ১১টি দায়িত্ব (নিবন্ধন নম্বর লাগানো, পরিবেশ রক্ষা, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ইত্যাদি)।
২৩. হস্তান্তর বা স্থানান্তর করতে প্রধান পরিদর্শককে জানাতে হবে।
২৪. মেরামতের শর্ত: লিখিত অবহিতকরণ, কোড মেনে চলা, তালিকাভুক্ত মেরামতকারী ও পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন।
• বয়লার ব্যবহার করতে নিবন্ধন ও সনদ লাগে, যা প্রতি বছর নবায়ন করতে হয়।
• কখন বয়লার চালানো যাবে না? — নিবন্ধন না থাকলে, ক্ষতিগ্রস্ত হলে, সনদের মেয়াদ শেষ হলে, অধিক চাপে, অলাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া, পানি মান নিয়ন্ত্রণে না থাকলে, বা অবৈধভাবে হস্তান্তর/মেরামত করলে।
• ব্যবহারকারীর দায়িত্ব: বয়লার হাউস তৈরি, আইনসম্মত বয়লার কেনা, নিবন্ধন নম্বর লাগানো, পরিবেশ রক্ষা, পরিদর্শককে সহায়তা করা ইত্যাদি।
• মেরামত: আগে লিখিত জানাতে হবে, কোড অনুসরণ, তালিকাভুক্ত মেরামতকারী দিয়ে করাতে হবে, এবং পরিদর্শক পর্যায়ক্রমে দেখবেন।
ষষ্ঠ অধ্যায় — পরিদর্শন, বন্ধকরণ, দুর্ঘটনা ও ক্ষতিপূরণ
২৫. পরিদর্শক যেকোনো স্থানে প্রবেশ করতে পারবেন পরিদর্শনের জন্য।
২৬. নিবন্ধনপত্র, সনদ ইত্যাদি উপস্থাপন করতে হবে।
২৭. আইন বহির্ভূত ব্যবহার বা দুর্ঘটনার আশঙ্কায় বয়লার বন্ধ করা যাবে।
২৮. দুর্ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক লিখিত সংবাদ দিতে হবে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিদর্শন, তদন্ত কমিটি গঠন।
২৯. ব্যবহারকারী বা পরিচালক দায়ী হবেন, যদি না প্রমাণ করতে পারেন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিয়েছেন।
৩০. তদন্ত কমিটির সুপারিশে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিতে পারেন প্রধান পরিদর্শক।
• পরিদর্শক যে কোনো সময় বয়লার পরীক্ষা করতে পারেন।
• কোনো অনিয়ম বা দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকলে বয়লার বন্ধ করা যেতে পারে।
• দুর্ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক লিখিত খবর দিতে হবে, তারপর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিদর্শক ঘটনাস্থলে যাবেন এবং তদন্ত শুরু হবে।
• দুর্ঘটনার জন্য ব্যবহারকারী/পরিচালক দায়ী, যদি না প্রমাণ করতে পারেন যে তারা সব ব্যবস্থা নিয়েছিলেন।
• ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন, যা তদন্ত কমিটি সুপারিশ করবে।
সপ্তম অধ্যায় — প্রশাসনিক জরিমানা, আপিল ও ফি আদায়
৩১. প্রধান বা উপ-প্রধান পরিদর্শক ৫টি ক্ষেত্রে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, পুনরাবৃত্তিতে দ্বিগুণ দিতে পারেন।
৩২. প্রধান পরিদর্শকের কাছে আপিল (৩০ দিনের মধ্যে)।
৩৩. বোর্ডের কাছে আপিল (৩০ দিনের মধ্যে), বোর্ডের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।
৩৪. ফি ও জরিমানা Public Demands Recovery Act, 1913 অনুযায়ী আদায়যোগ্য।
• নির্দিষ্ট ৫টি লঙ্ঘনে (সনদ নবায়ন না করা, বেশি চাপে ব্যবহার, অলাইসেন্সে চালানো, পানি মান নিয়ন্ত্রণ না করা, ইত্যাদি) ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, এবং বারবার করলে দ্বিগুণ।
• অন্য কর্মকর্তার আদেশে অখুশি হলে প্রধান পরিদর্শকের কাছে আপিল করতে পারেন ৩০ দিনের মধ্যে।
• প্রধান পরিদর্শকের আদেশে অখুশি হলে বোর্ডের কাছে আপিল করতে পারেন ৩০ দিনের মধ্যে — বোর্ডের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
• জরিমানা আদায় করা হবে সরকারি দাবি হিসেবে।
| লঙ্ঘনের ধরন | জরিমানা (প্রথম) | পুনরাবৃত্তি |
|---|---|---|
| সনদ নবায়ন ছাড়া ব্যবহার | ১,০০,০০০ টাকা | দ্বিগুণ |
| অধিক চাপে ব্যবহার | ১,০০,০০০ টাকা | দ্বিগুণ |
| অলাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া চালানো | ১,০০,০০০ টাকা | দ্বিগুণ |
| পানির মান নিয়ন্ত্রণ না করা | ১,০০,০০০ টাকা | দ্বিগুণ |
অষ্টম অধ্যায় — নিয়োগ
সরকার প্রধান বয়লার পরিদর্শক, উপ-প্রধান বয়লার পরিদর্শক ও বয়লার পরিদর্শকসহ কর্মচারী নিয়োগ দেবে। নিয়োগ, পদোন্নতি ও শর্তাবলি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হবে।
নবম অধ্যায় — অপরাধ ও দণ্ড
৩৬–৪৪: বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনে ১–২ বছর কারাদণ্ড ও ১–২ লক্ষ টাকা জরিমানা বা উভয়।
৪৫: পুনরায় একই অপরাধ করলে দ্বিগুণ দণ্ড।
৪৬: বিধি দ্বারা নতুন অপরাধ চিহ্নিত ও দণ্ড নির্ধারণ করা যাবে, তবে সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম নয়।
• লাইসেন্স ছাড়া বয়লার চালানো, অবৈধ নির্মাণ, নিবন্ধন ছাড়া ব্যবহার, নিষেধাজ্ঞা অমান্য, নিবন্ধন নম্বর পরিবর্তন, অবৈধ হস্তান্তর/মেরামত, দলিল না দেখানো, দুর্ঘটনার খবর না দেয়া — সবই অপরাধ।
• শাস্তি: সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড এবং ২ লক্ষ টাকা জরিমানা (বা উভয়)।
• একই অপরাধ বারবার করলে শাস্তি দ্বিগুণ হবে।
• পরে সরকার বিধি করে আরও অপরাধ ও দণ্ড যোগ করতে পারে, কিন্তু আইনে দেওয়া সর্বোচ্চ দণ্ডের বেশি নয়।
| অপরাধ | সর্বোচ্চ সাজা | জরিমানা |
|---|---|---|
| লাইসেন্স ছাড়া চালানো (৩৬) | ২ বছর | ২,০০,০০০ টাকা |
| অবৈধ নির্মাণ (৩৭) | ২ বছর | ২,০০,০০০ টাকা |
| নিবন্ধন ছাড়া ব্যবহার (৩৮) | ২ বছর | ২,০০,০০০ টাকা |
| নিষেধাজ্ঞা অমান্য (৩৯) | ২ বছর | ২,০০,০০০ টাকা |
| নিবন্ধন নম্বর অপসারণ (৪০) | ২ বছর | ২,০০,০০০ টাকা |
| অবৈধ হস্তান্তর (৪১) | ১ বছর | ১,০০,০০০ টাকা |
| অবৈধ মেরামত (৪২) | ১ বছর | ১,০০,০০০ টাকা |
| দলিল না দেখানো (৪৩) | ১ বছর | ১,০০,০০০ টাকা |
| দুর্ঘটনার খবর না দেয়া (৪৪) | ২ বছর | ২,০০,০০০ টাকা |
| পুনঃসংঘটন (৪৫) | দ্বিগুণ | দ্বিগুণ |
দশম অধ্যায় — অপরাধের বিচার
৪৭. প্রধান পরিদর্শক বা তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগ ব্যতীত মামলা গ্রহণ করা যাবে না। বিচার হবে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে।
৪৮. ম্যাজিস্ট্রেট আইনের ধারা অনুযায়ী জরিমানা আরোপ করতে পারবেন।
৪৯. কোম্পানির অপরাধে পরিচালক, ব্যবস্থাপক, অংশীদার, কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়ী হবেন (যদি না প্রমাণ করেন অজ্ঞাতসারে এবং প্রতিরোধের চেষ্টা ছিল)। কোম্পানিকেও পৃথকভাবে অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে।
৫০. মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ প্রযোজ্য হবে।
• মামলা করতে হলে প্রধান বয়লার পরিদর্শক বা তার অনুমতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগ লাগবে। বিচার হবে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে।
• কোম্পানি (যেমন কারখানা) অপরাধ করলে তার পরিচালক, ম্যানেজার, কর্মকর্তারা দায়ী হবেন, যদি না তারা প্রমাণ করতে পারেন যে তারা বিষয়টি জানতেন না এবং প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন। কোম্পানিকেও আলাদা অর্থদণ্ড দিতে হবে।
• মোবাইল কোর্টও এই আইনের অপরাধের শাস্তি দিতে পারে।
কোম্পানির ক্ষেত্রে: ‘কোম্পানি’ মানে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, অংশীদারি কারবার, সমিতি, সংঘ ইত্যাদি। ‘পরিচালক’ মানে অংশীদার বা বোর্ড সদস্য।
একাদশ অধ্যায় — বিবিধ
৫১. প্রধান পরিদর্শক তার ক্ষমতা অন্য কর্মকর্তাকে অর্পণ করতে পারেন।
৫২. সরকার বিধি প্রণয়ন করবে।
৫৩. সরকার বোর্ডের সুপারিশে ‘বয়লার কোড’ তৈরি করবে।
৫৪. Boilers Act, 1923 রহিত হলো, তবে পূর্ববর্তী নিবন্ধন সনদ ও বিধি কার্যকর থাকবে (সামঞ্জস্যপূর্ণ সাপেক্ষে)।
৫৫. ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করা যাবে, বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাবে।
• প্রধান পরিদর্শক চাইলে নিজের কিছু ক্ষমতা অন্য কর্মকর্তাকে দিয়ে দিতে পারেন।
• সরকার বিধি ও বয়লার কোড (কারিগরি নিয়ম) তৈরি করবে।
• ১৯২৩ সালের পুরোনো আইন বাতিল করা হয়েছে, তবে তার আওতায় যারা ইতিমধ্যে নিবন্ধিত তারা চালু থাকবে, এবং পুরোনো বিধি-নিষেধও চলতে থাকবে যতক্ষণ না নতুন করা হয়।
• ইংরেজি অনুবাদ থাকলেও বাংলা মূল বলে গণ্য হবে।
❓ প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
📌 মূল পয়েন্টসমূহ (সংক্ষিপ্ত)
- বয়লার আইন, ২০২২ — ১৯২৩ সালের আইন প্রতিস্থাপন
- বয়লার সংজ্ঞা: ২৫ লিটারের বেশি পানি ধারণক্ষমতা
- ৩টি লাইসেন্স গ্রেড (গ্রেড-১, ২, ৩)
- বয়লার বোর্ড: ৮ সদস্য, চেয়ারম্যান শিল্প সচিব
- ব্যবহারের সনদ: ১ বছর মেয়াদ, নবায়নযোগ্য
- নির্মাণ/আমদানি/মেরামত: তালিকাভুক্তি ও কোড মানতে হবে
- প্রশাসনিক জরিমানা: ১ লক্ষ টাকা, পুনরাবৃত্তিতে দ্বিগুণ
- ফৌজদারি শাস্তি: ২ বছর কারাদণ্ড ও ২ লক্ষ টাকা
- আপিল: প্রথমে প্রধান পরিদর্শক, পরে বোর্ড (চূড়ান্ত)
- কোম্পানির অপরাধে পরিচালক ও কোম্পানি উভয়ই দায়ী
🔧 FOTEPUR — আপনার বয়লার নিরাপত্তা অংশীদার
আমরা বয়লার নির্মাণ, আমদানি, পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণে বিশেষজ্ঞ। আইন মেনে নিরাপদ বয়লার ব্যবহার নিশ্চিত করতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।
আরও জানুন →📞 +৮৮০ ১২৩৪-৫৬৭৮৯০ ✉️ info@fotepur.com





